মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এবারের আসরটি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে কমিয়ে আনা হয়েছে আসরের ভেন্যু, মাত্র দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে পিএসএলের ম্যাচ।
পাকিস্তান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় সরকার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে পিএসএলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রবিবার (২২ মার্চ) পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনার পর পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে নাকভি বলেন, “জ্বালানি সঙ্কটের কারণে প্রধানমন্ত্রী মানুষের চলাচল সীমিত করার অনুরোধ করেছেন। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, পিএসএল পূর্বনির্ধারিত সময়-সূচি অনুযায়ীই চলবে, তবে দর্শকশূন্য অবস্থায় খেলা হবে।”
দর্শকদের ভ্রমণ আটকাতে আট দলের লিগটি মূল ছয়টি ভেন্যুর পরিবর্তে দুটি ভেন্যুতে নামিয়ে আনা হয়েছে। যার ফলে ফয়সালাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, মুলতান এবং পেশোয়ারের ভেন্যু বাদ পড়েছে।
নাকভি বলেন, “পিএসএলের সব ম্যাচ এখন লাহোর ও করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং আমরা আশা করি দর্শক সমাগমে লিগটি আয়োজন করা সম্ভব হবে, তবে তা ইরানের সঙ্কট শেষ হওয়ার উপর নির্ভরশীল।”
পাকিস্তানে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ২০১৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পিএসএল শুরু হয়েছিল। এবার দেশের মাটিতে হলেও দর্শকরা গ্যালারিতে বসে দেখতে পারছেন না।
নাকভি আরও বলেন, “পেশোয়ারের সেই দর্শকদের জন্য আমার খারাপ লাগছে, যারা প্রথমবারের মতো একটি ম্যাচ দেখার কথা ছিল। দর্শক না থাকায় রাজস্ব ক্ষতির জন্য পিসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে। গেট থেকে প্রাপ্ত অর্থের সিংহভাগই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে যায়।”
২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়ে পিএসএলের একাদশ আসর শেষ হবে ৩ মে।
